২০১৮ সালে মোবাইলের চেয়ে ল্যাপটপ আছে এগিয়ে/ Mobile vs Laptop

Posted by

বাংলাদেশে প্রতিবছর নোটবুক ও ডেস্কটপ মিলিয়ে কতগুলো কম্পিউটার মানুষের হাতে আসে?

চার লাখের বেশি হওয়ার কথা নয়। ১৬ কোটি মানুষের দেশে সংখ্যাটা খুব কম। তবে প্রতিবছর এটা বাড়ছে।

 

 

আমাদের দেশে কম্পিউটারের মধ্যে নোটবুক বা ল্যাপটপ কেনাবেচা হয় বেশি। আজ থেকে পাঁচ–সাত বছর আগেও ডেস্কটপের দোর্দণ্ডপ্রতাপ ছিল। এখন ১০০টি কম্পিউটার বিক্রি হলে ৭০টি হয় নোটবুক। তবে ২০১৮ সালে ডেস্কটপ বিক্রির হার আবার কিছুটা বেড়ে চলছে।

বছর কয়েক আগে ট্যাবলেট কম্পিউটার ঝড়ের বেগে বাজারে প্রবেশ করে। ধারণা করা হচ্ছিল, নোটবুক যেমন ডে স্কটপের স্থান দখল করেছে, ট্যাবলেটও তেমনি নোটবুককে হটিয়ে দেবে। কিন্তু তা হয়নি। বরং ২০১৮–এর শেষ পর্যন্ত ট্যাবলেটের অবস্থান আরও দুর্বল হয়েছে। নোটবুকের সঙ্গে ট্যাবলেটের সুবিধা দেওয়ার জন্য কিছু ডিটাচেবল নোটবুক এসেছে, যেগুলোতে পর্দাকে আলাদা করে ফেলা যায়। এ ধারাও তেমন জনপ্রিয়তা পায়নি।

নোটবুক হয়েছে কৃশকায়

স্থূলাকৃতির নোটবুক ধীরে ধীরে কৃশকায় হয়েছে। ক্রেতারা হালকা আর স্লিম নোটবুক পছন্দ করেন। যেসব যন্ত্রাংশ নোটবুককে স্থূল করে তোলে, সেগুলো দ্রুত বাতিল হতে থাকল। এখন ঘূর্ণমান চাকার স্থূল আকৃতির হার্ডডিস্কের জায়গায় স্থান করে নিচ্ছে ক্রেডিট কার্ডের মতো এসএসডি। ২০১৮–এর ক্রেতাচাহিদা দেখে বলে দেওয়া যেতে পারে যে সামনে এসএসডি ব্যাপক জনপ্রিয় হবে। নোটবুককে ভারী করে তোলার আরেকটা যন্ত্রাংশ হলো ডিভিডি ড্রাইভ। এর স্থানও এখন আর নোটবুকে নেই বললেই চলে। ডিভিডি ছাড়া নোটবুকের কথা কিছুদিন আগেও ভাবা যেত না। একসময় ফ্লপি ড্রাইভ ছাড়া পিসির (পার্সোনাল কম্পিউটার) কথা যেমন ভাবা যেত না, এটাও তেমন। নোটবুকের ভেতরে আরও যা যা আছে, সেখানেও পরিবর্তন এসেছে।

কপি নয়, আসল উইন্ডোজ

কপি করা উইন্ডোজের দিন ফুরিয়ে আসছে দ্রুত। ক্রেতারা এখন আসল (লাইসেন্সড) উইন্ডোজসমেত নোটবুক নিতে আগ্রহী হয়ে উঠছেন। ২০১৮ সালে দেখা গেছে, শুধু ৩০ শতাংশ নোটবুক আমদানি হয়ে আসে বিনা মূল্যের ডস (ডিস্ক অপারেটিং সিস্টেম) দিয়ে, বাকিগুলোতে আসল অপারেটিং সিস্টেম দেওয়া থাকে। বিনা মূল্যের ডসের এই ৩০ শতাংশ নোটবুকে সব ক্রেতা কপি উইন্ডোজে ব্যবহার করেন, বিষয়টা আবার তা না। এর একটা বড় অংশ পূরণ হয় ওপেন সোর্সের অপারেটিং সিস্টেম দিয়ে। করপোরেট ক্রেতার বাইরে মাইক্রোসফটের জনপ্রিয় অফিস প্যাকেজের ক্রেতার সংখ্যা ২০১৮ সালেই বেড়েছে প্রায় দ্বিগুণ। অন্যদিকে, ক্লাউড–নির্ভর গুগলের অফিস প্যাকেজ এখন মাইক্রোসফট অফিসের বিকল্প হিসেবে জনপ্রিয়।

ব্র্যান্ড কম্পিউটারের চাহিদা বেড়েছে

১৫ বছর ধরে বাংলাদেশের ডেস্কটপে ক্লোন বা হোয়াইট বক্স পিসির আধিপত্য ছিল। এ সময়ে ব্র্যান্ড নোটবুক এগিয়ে চললেও ব্র্যান্ড ডেস্কটপ পিসিকে ক্রেতারা সাদরে গ্রহণ করেননি। শুধু করপোরেট ক্রেতাদের মধ্যে এর একটা চাহিদা ছিল, যা পুরো বাজারের ১৫ শতাংশের বেশি না। ২০১৮ সালে দেখা গেল, ক্রেতাদের কাছে ক্লোনের জায়গায় ব্র্যান্ড কম্পিউটারের চাহিদা বাড়ছে। ২০১৮ সালের সার্ভার ক্রেতাদের আগ্রহের তালিকায় হোয়াইট বক্স প্রায় হারিয়ে গেছে এবং ব্র্যান্ড সার্ভার ওই জায়গার প্রায় পুরোটাই দখল করে নিয়েছে। যে কোম্পানিগুলো হোয়াইট বক্সের জন্য যন্ত্রাংশ—যেমন মেইন বা মাদারবোর্ড, মেমোরি, কেসিং প্রভৃতি নির্মাণ করে, তারা এখন মূলত গেমিং কম্পিউটার ক্রেতাদের মধ্যে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখার চেষ্টা করছে।

হঠাৎ এএমডির উত্থান

বাংলাদেশে এএমডি প্রসেসর–নির্ভর কম্পিউটার বাজার ৫ শতাংশের নিচে। চিত্রটা বিশ্বের অন্যান্য জায়গার মতো না। তবে ২০১৮–তে এএমডির রাইজেন প্রসেসর দেশে একটা আলোড়ন তুলেছিল, বছরের শেষ দিকে ইন্টেল প্রসেসরের জোগান পৃথিবীজুড়ে যখন উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমে যায়। এ সময় ইন্টেল প্রসেসর কিনতে ক্রেতাদের অনেক বাড়তি দাম দিতে হয়েছে, এখনো দিতে হচ্ছে। ধারণা করা হয়েছিল, বাংলাদেশের ক্রেতারা ইন্টেল থেকে মুখ ঘুরিয়ে নিয়ে এবার এএমডিকে একটা বড় স্থান দেবে। কিন্তু আদতে এটা ততটুকু ঘটেনি।

ল্যাপটপে কে কোথায়?

আগের বছরগুলোর মতো ২০১৮–তে ক্রেতারা নোটবুকে এইচপিকে প্রথম স্থান দিয়ে রেখেছে। জনপ্রিয়তায় আসুস নোটবুক অনেক এগিয়ে গেছে, এখন তারা দ্বিতীয় স্থান নিয়ে আছে। অনেক দেশের প্রধান ও তুমুল জনপ্রিয় ব্র্যান্ড এসার বাংলাদেশের বাজারে টিমটিম করে জেগে আছে। ২০১৮–তে লেনোভো ও ডেল তাদের প্রোগ্রামে সুস্থির ছিল না, তাই সাধারণ নোটবুক ক্রেতাদের মধ্যে এ সময়ে খুব বড় আঁচড় কাটতে পারেনি। তবে করপোরেট ক্রেতাদের মধ্যে ডেলের অবস্থান এবার আরও শক্ত হয়েছে। শুধু ডেস্কটপের দিকটা দেখলে ডেলের অবস্থান প্রথম।

ঢাকা ছাড়িয়ে

কম্পিউটার ব্যবহারকারীরা এখন শুধু ঢাকা ও কিছু শহরের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। প্রত্যন্ত এলাকায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। হিসাব বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, সারা দেশে আনুমানিক ৪০ লাখ কম্পিউটার এখন ব্যবহারে আছে। হিসাবটা দেশের জনসংখ্যাকে ভিত্তি করে করতে গেলে ১৬ কোটির মধ্যে সংখ্যাটা নিতান্তই কম। বছর বছর কম্পিউটার ব্যবহার বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই। তাই এটাকে সাশ্রয়ী করতে হবে, ভালো সেবা নিশ্চিত করতে হবে, কোয়ালিটি ইন্টারনেটকে সুলভ করতে হবে।

কারণ, এটা ইতিমধ্যে প্রমাণিত যে বাংলাদেশের মানুষ নতুন জিনিসকে সমাদরে গ্রহণ করতে জানে।

Leave a Reply