মোবাইল নেটওয়ার্কের আদ্য অন্ত (Generation Of Mobile Network) Part-1

Posted by

১৯৮০ সালে প্রথম তারবিহীন মোবাইল টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা 1G( First generation ) চালু হওয়ার পর থেকে ঠিক প্রতি দশ বছর পর পর ট্রান্সমিশন পদ্ধতির পরিবর্তন বা নতুন পদ্ধতি চালু হয়েছে। বিজ্ঞানীরা এখনও মোবাইল কমিউনিকেশনকে আরও উন্নত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। ফলে প্রতিনিয়ত বাড়ছে ইন্টারনেটের গতি, তৈরি হচ্ছে কম বিদ্যুৎ শক্তিতে চালিত শক্তিশালী নেটওয়ার্ক, কমেছে রেসপন্স টাইম ও পিং এর সময়।

কিছুদিন আগেই আমাদের দেশ প্রবেশ করলো ফোরজির যুগে। কেমন হবে ফোরজির নেটওয়ার্ক, কেমন স্পীড ই বা পাওয়া যাবে। তো এই পোস্টে জানবো বিভিন্ন ধরনের মোবাইল নেটওয়ার্ক এবং এর কার্জ প্রণালী।

 1G: Voice Only First generation

নেটওয়ার্কে ছিল শুধুমাত্র অ্যানালগ ভয়েস কমিউনিকেশন । এই দিয়েই শুরু হয় সেল ফোন বা মোবাইল ফোনের যুগ । প্রথম দিকের ফোন গুলো ইটের ফোন বা ব্যাগ ফোন নামেও পরিচিত ছিল, কেননা এর আকার ছিল অনেক বড়, ব্যাটারির আয়ুষ্কাল ছিল খুব কম, ভয়েস কোয়ালিটি ছিল খুবই বাজে। এই নেটওয়ার্কে সর্বচ্চ ২.৪ কিলোবিট প্রতি সেকেন্ড গতিতে তথ্য আদান প্রদান করতে পারত।

 2G: SMS and MMS

মোবাইল ফোনের নেটওয়ার্কের যুগান্তকারী পরিবর্তন হয় ১৯৯১ সালে যখন 1G, 2G তে রূপান্তরিত হয়। এই নেটওয়ার্কের নাম GSM(Global System for mobile Communications). 2G আসায় অ্যানালগ নেটওয়ার্ক ডিজিটালে রূপান্তরিত হয়। 2G তে প্রথম কল encryption (বিশেষ গোপনীয় সংকেত) চালু হয়। ফলে ফোন কল বা বার্তা যে কেউ ইচ্ছা করলেও শুনতে বা ধরতে পারবে না।

2G নেটওয়ার্কে প্রথম SMS এবং MMS সার্ভিস চালু হয়। 2G নেটওয়ার্ক অনেক আগে তৈরি হলেও, এখনও বিশ্বের সব দেশে বাব্যহারিত হচ্ছে। GSM 380 থেকে 900 MHz ফ্রিকোয়েন্সিতে কাজ করে। যদিও বাংলাদেশে বর্তমানে শুধু ৮৫০ ও ৯০০ মেগাহার্টজ ফ্রিকোয়েন্সিতে জিএসএম সেবা দেওয়া হয়।  GSM এ ডাটা আদান-প্রদান হয় GPRS(General Packet Radio Service) এর মাধ্যমে , যার সর্বচ্চো গতি ৬৪কিলোবিট প্রতি সেকেন্ড । পরবর্তীতে GSM কে আরও উন্নত করে চালু করা হয় EDGE(Enhanced Data rates for GSM). EDGE এর গতি আরও বাড়ানোর জন্য এতে ১৮০০ মেগাহার্টজ এর তরজ্ঞ ব্যবহার করা হয়। সাধারণ EDGE এর সর্বচ্চো ডাউন-লোড গতি ২৩৬ কিলোবিট প্রতি সেকেন্ড। এজন্য একে 2.5G বা 2.75G বলা হয়ে থাকে। এর মাঝে আরও একটি নেটওয়ার্ক ডেভেলপ হয়, তা হল CDMA(Code Division Multiple Acces) যার সর্বচ্চো গতি 153kbps.

3G: Mobile Broadband & Video Call 

3G নেটওয়ার্ক চালু হয় ১৯৯৮ সালে। 3G নেটওয়ার্ক ডাটা আদান-প্রদান গতিতে যুগান্তকারী পরিবর্তন আনে। যা দিয়ে HD voice Call, Video call কল করা যায় এবং অনলাইন স্ট্রিমিং কনটেন্ট উপভোগ করা যায়। 3G তে প্রথম দিকে চালু হয় UMTS(universal Mobile Telecommunication System), এর সর্বচ্চ গতি 384Kbps. একে আরও উন্নত করে পরবর্তীতে আসে HSPA(High Speed Packet Acces), HSPA+ বা HSPDA(High Speed Downlink Packet Accees). HSPA এর গতি 3.6 Mbps, HSPA+ বা HSDPA এর সর্বচ্চ গতি 7.2 Mbps যা বাংলাদেশে চালু আছে। 3G এর মধ্যে পড়ে এমন আরও দুটি মোবাইল নেটওয়ার্ক আছে বাংলাদেশে। সিটিসেল এর EV-DO(Evolution Data Optimized) যার সর্বচ্চ গতি ২.৩ মেগাবিট প্রতি সেকেন্ড। আরেকটি হল বাংলা-লায়ন ওয়াইম্যাক্স । এর গতি 100Mbps পর্যন্ত । একে প্রি ফোরজি ও বলা হয়ে থাকে।


Leave a Reply